বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

নির্বাচিত সরকারই নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন ভোটের অধিকার জনগণের হাতে। কাজেই নির্বাচিত সরকারই নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আর ফিরে যাওয়ার উপায় নেই। এখন আমাদের সংবিধানও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করে। নির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে একটি নির্বাচিত সরকার (ক্ষমতায়) আসবে।’

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রচারিত ভয়েস অফ আমেরিকার (ভোয়া) বাংলা সার্ভিসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এই মন্তব্য করেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান শতরূপা বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওয়াশিংটন সফরের সময় ওই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। ওই সাক্ষাৎকারের ভিডিও ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক সময় তারা (বিএনপি) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (সিজি) বিরোধিতা করত, এখন তারা দাবি করছে, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা কী করবে তা নিশ্চিত নয়। তাছাড়া বিএনপি এই (সিজি) ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা হাইকোর্টের বিচারকদের বয়স বাড়ানো, ১.২৩ কোটি ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ ইচ্ছে মতো সরকার বসানোর জন্য নানা ধরনের অপকর্ম করেছে। কোনোটাতেই কাজ হয়নি, কারণ জনগণ তা মেনে নেয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যখন ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে যায়, তখন আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (সিজি) জন্য আন্দোলন করেছিলাম। যখন ভোট চুরি হয়েছিল, তখন জনগণ তা চেয়েছিল (সিজি)। তখন বিএনপি নেত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) বলেন, পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়, এটা তাদের বক্তব্য। তারা এর বিরুদ্ধে ছিল।’

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিষয় ছিল ২০০৮ সালে সিজির অধীনে নির্বাচন হয়েছিল, কারণ বিএনপি ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে তাদের বিভিন্ন অপকর্মের কারণে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, মানি লন্ডারিং এবং জরুরি অবস্থা জারি করেছিল।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার (সিজি) আসে। কিন্তু তারা দুই বছর নির্বাচন দেয়নি, বরং আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে যখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তখন তাও সিজির অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই নির্বাচনে বিএনপি কতটি আসন পেয়েছিল?

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জামায়াতসহ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছে এবং তারপর তারা পুনরায় নির্বাচনে আরেকটি আসন পায়, ফলে তাদের আসন সংখ্যা ৩০ হয়। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে তারা এই পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ জন্য তারা ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন এবং তা বানচাল করতে আগুন সন্ত্রাস করেছিল।’

আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ৩ হাজারের বেশি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, হাজার হাজার গাছ কেটেছে, রাস্তা কেটেছে, ৫০০ টিরও বেশি ভোটকেন্দ্র ও স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে, বোমা মেরে আদালতে বিচারক হত্যা করেছে। তারপর ২০১৮ সালের নির্বাচন এলো এবং তারা এতে অংশগ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩০০টি আসনে প্রায় ৭৫০টি মনোনয়নপত্র ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, একটি মনোনয়ন এসেছে লন্ডন থেকে, আরেকটি তাদের গুলশান অফিস থেকে এবং অন্যটি এসেছে পুরানা পল্টন অফিস থেকে।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে, যখন প্রতিটি আসনে দুই বা তিনজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। সে নির্বাচনেও তারা ব্যর্থ হয়। নির্বাচনে তারা মাত্র কয়েকটি (সিট) জিতেছে।’

বিএনপি কখনোই অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করেনি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না।

তিনি জানতে চান ‘তারা হঠাৎ সিজির দাবি করছে কেন? প্রশ্ন হলো, তাদের নেতা কে? জনগণ কাকে ভোট দেবে? জনগণ এমন একজন নেতা দেখতে চায়, যিনি ভোট দিলে আগামীতে এই দেশ পরিচালনা করবেন। এমন কাউকে সামনে আনতে পেরেছেন যাকে নিয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন?

শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোট আছে, কিন্তু তাদের নেতৃত্ব কোথায়, যারা দেশ পরিচালনা করবে।

তিনি আরো বলেন, ‘তৃতীয় বিষয় হলো নির্বাচন। এটা জনগণের ভোটের অধিকার।’

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে যখন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় তখন হাইকোর্টের একটি রায়ের পরে তা করা হয়। এতে বলা হয়েছিল যে বাংলাদেশে কোনো অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না এবং একটি নির্বাচিত সরকারকে অন্য নির্বাচিত সরকার দ্বারা প্রতিস্থাপিত করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com